ঢাকা   ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আধুনিক ইসলামিক প্রশ্ন ও উওর ১৩

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, মার্চ ১৯, ২০২৪
  • 99 শেয়ার

মুহাম্মদ বাহাউদ্দিন খলিফা আল্লামা আয়াজ আহম্মেদখা, গড়াছড়ি প্রতিনিধি:

প্রশ্ন:আসসালামু আলাইকুম,
এশার নামাজের প্রথম দুই রাকাত পড়তে পারিনি, শেষের দুই রাকাতে কি আলহামদুলিল্লাহ সুরার সাথে সুরা মিলাব নাকি তাশাহুদ পরে পরের দুই রাকাতে সুরা মিলাব, যেহেতু ইমামের পিছনে প্রথম দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারিনি আমি  সুখরান
উত্তর :ইমামের সাথে দুই রাকাতে কোন সূরা মিলাবেন না। ইমাম সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে যে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন সেই দুই রাকাত সূরা মিলিয়ে পড়বেন। শুকরান।
প্রশ্ন :আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লা, হুজুর আমার বাবা নাই, মা হজ্বে যাওয়ার জন্য এইবার টাকা জমা দিয়েছি। আমার বাবার বন্ধু ও ওনাদের পরিবার যাচ্ছেন। ওনাদের সাথে আমার মাকে পাঠাচ্ছি। আমার সমস্যার কারণে যেতে পারছি না, শরীয়তের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে আমার মায়ের হজ্ব পালনে কোন সমস্যা হবে কি না?? দয়া করে জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর :আপনার মায়ের হজ আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মাহরাম ছাড়া সফর করার গুনাহ হবে। এজন্য তওবা করতে হবে। মাহরাম না থাকলে বা মাহরামের যাওয়ার ব্যবস্থা না হলে মহিলাদের জন্য হজ আদায় করা ফরজ হয় না। যেহেতু সফর পরিমাণ দূরত্বে মহিলাদের মাহরাম সফর করা নিষেধ। শুকরান।
প্রশ্ন :রোজা রেখে রক্তদান করার হুকুম কী?
উত্তর: যদি রক্ত দিলে এই পরিমাণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে যে রোজাই ভেঙ্গে ফেলবেন তাহলে রক্ত দেওয়া মাকরুহ হবে ‌। নয়তোবা রক্ত দিতে পারবেন। শুকরান।
প্রশ্ন : আমার বাবাকে আমার ওস্তাদ সালাম জানিয়েছেন আমার কাছে, কিন্তু আমি সেটা আমার বাবাকে জানাতে ভুলে গেছি অথবা ইচ্ছে করেই বলিনি।
এর হুকুম কি?
উত্তর :যদি ওস্তাদের কাছে সালাম পৌঁছানোর ওয়াদা করে থাকেন তাহলে সালাম পৌঁছাতে হবে না হলে ওয়াদা ভঙ্গের গুনা হবে। শুকরান।
প্রশ্ন :একজন ইমাম উনি ওয়াশরুমে গেলে ঢিলা কুলুপ করে না। এবং পানি উনার লুঙ্গি ভিজে যায় অনেকটাই। ওই লুঙ্গি পরে উনি নামাজ পড়ে, উনার পিছে কি নামাজ পড়া যাবে। রেফারেন্স সহকারে জানালে উপকৃত।
উত্তর :ইমামের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন যে ইমামের লুঙ্গিতে যে পানি লাগে সেটা কি নাপাক মিশ্রিত পানি নাকি সাধারণ পানি। যদি সাধারণ পানি হয় তাহলে সমস্যা নেই নামাজ হয়ে যাবে। আর যদি নাপাক মিশ্রিত পানি লাগে তাহলে নামাজ হবে না। তবে ইমাম সাহেবদের উচিত তাহারাতের ক্ষেত্রে পূর্ণতা দান করা। শুকরান।,
প্রশ্ন :ইমামের পিছনে আসরের নামাজ পড়লে কি সুরা ফাতিহা পড়তে হবে বা সূরা মিলাতে হবে?
উত্তর :ইমামের পিছনে কোন সূরা পড়তে হয় না বা সূরা মিলাতে হয় না । ইমামের কেরাত ই মুসল্লিদের জন্য যথেষ্ট। শুকরান।
প্রশ্ন :তারাবিহ ২০ রাকাতের দলিল কি?
উত্তর :তারাবীহর রাকাআত সংখ্যা বিশ নির্ধারণ। যেমন ইমাম বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হি.) রহ.-এর শায়খ আলী ইবনুল জা’দ রহ. (মৃত্যু ২৩০ হি.) স্বীয় ‘মুসনাদে’ সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেন,
عَنِ السَّائِبِ كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً، وَإِنْ كَانُوا لَيَقْرَءُونَ بِالْمِئِينَ مِنَ الْقُرْآنِ
হযরত সাইব ইবনে ইয়াযীদ রা. বলেন, তাঁরা (সাহাবা ও তাবেয়ীন) উমর রা.-এর যুগে রমযান মাসে বিশ রাকাআত (তারাবীহ) পড়তেন এবং শতাধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহ পড়তেন। (মুসনাদে ইবনুল জা’দ ২৯২৬; আস-সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৪৬৭৯)

বর্ণনাটির সূত্র সহীহ। কেননা ইমাম বুখারীর উস্তাদ যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা সবাই বুখারী-মুসলিমের বর্ণনাকারী। এছাড়া ইমাম বুখারীর উস্তাদের সূত্রে ইমাম বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রটিও সহীহ। বেশ কয়েকজন মুহাদ্দিস সুস্পষ্টভাবে এটাকে সহীহ বলেছেন। যেমন ইমাম নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.), ইবনুল মুলাক্কিন মিসরী (মৃ. ৮০৪ হি.), ওলীউদ্দীন ইরাকী (মৃ. ৮২৬ হি.), বদরুদ্দীন আইনী (মৃ. ৮৫৫ হি.), জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.), শায়খ আব্দুল হক দেহলভী (মৃ. ১০৫৮ হি.), শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী (মৃ. ১২৩৯ হি.) ও আল্লামা নিমাভী (মৃ. ১৩২২ হি.) রাহ. প্রমুখ। (দেখুন- আল-মাজমূ’, নববী ৩/৫২৭; আল-বদরুল মুনীর ১০/২৭৪, ইবনুল মুলাক্কিন; উমদাতুল কারী, আইনী ৫/৩৮৯; তরহুত তাসরীব, ইরাকী ৩/৯৭; আল-মাসাবীহ ফী সালাতিত তারাবীহ, সুয়ূতী পৃ. ২৮; মা সাবাতা বিস সুন্নাহ পৃ. ২১৭; ফাতাওয়া আজীজী পৃ. ৪৮৪ ও আসারুস সুনান, নীমাভী পৃ. ২৪৬।)
শুকরান।
প্রশ্ন :মাসাহিফ কি?

মাসাহিফ কারা লিখেছেন?
উত্তর :পবিত্র কোরআনের লিখিত নুসখাসমুহ কে মাসাহিফ বলা হয়।

এই লিখেছেন সাহাবায়ে কেরাম। প্রথমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে, এরপর খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে। শুকরান।
প্রশ্ন :আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। শায়েখ কেমন আছেন? আমার একটা প্রশ্ন আছে, সেটা হলোঃ ইমাম যদি ইশার জামাত কোন কারণে মিস করেন। তখন যদি মুয়াজ্জিন ইশার নামাজ আদায় করে তারাবী নামাজ ৪ রাকাত আদায় করে ফেলেন। ইমাম সাহেব মসজিদে গিয়ে ফরজ সুন্নাত পর কি বাকি তারাবীর ইমামতী করতে পারবেন? ইমামের তারাবি হবে ১ম রাকাত, মুক্তাদীদের হবে ৫ম রাকাত, এতে কি কোন সমস্যা হবে? ইমাম সাহেবের ১৬ রাকাত হলে মুক্তাদীদের ২০ রাকাত পূর্ণ হবে, ইমাম সাহেব তখন কি বেতের নামাজে ইমামতী করতে পারবেন?
উত্তর :হ্যাঁ, ইমাম সাহেব এভাবে নামাজ পড়াতে পারবেন। শুকরান।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪