ঢাকা   ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নওগার মহাদেবপুরে গৃহবধূকে মারপিট করে একঘরে করার অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : সোমবার, মার্চ ১৮, ২০২৪
  • 33 শেয়ার

উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর মহাদেবপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টাকারি যুবককে হাতেনাতে আটক করলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার এবং উল্টো ওই গৃহবধূকেই মারপিট করে একঘরে করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় একজন ইউপি মেম্বার, একজন কথিত মাতব্বর ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা শালিস করে ওই যুবকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কিন্তু নির্যাতিতা গৃহবধূকে এর কোন অংশ দেননি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা বলেছেন ঘটনাটি ছিল অস্বামাজিক।

গত ১২ মার্চ দিবাগত রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত শনিবার (১৬ মার্চ) এলাকার হিন্দু মাতব্বররা ওই গৃহবধূকে একঘরে করার ঘোষণা দিলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। লোকলজ্জার ভয়ে ওই গৃহবধূ আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না। সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসী ও মাতব্বরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই গৃহবধূর স্বামী ঢাকায় থাকার সুবাদে গত ১২ মার্চ দিবাগত রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের নুর ইসলাম ওরফে সুধীর পাগলার ছেলে রুবেল হোসেন ওরফে আব্দুল কুদ্দুস ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। জানতে পেরে হাতুড় ইউপি মেম্বার পরিমল চন্দ্র ও অন্যরা তাকে গৃহবধূর ঘর থেকে আটক করে দুজনকেই মারপিট করেন। পরে ওই মেম্বার, কথিত মাতব্বর খোরশেদ আলম, স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা রুবেলের পরিবারের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেলকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। গাহলি বাজারে তার ওয়েল্ডিংয়ের দোকান বন্ধ এবং তার মোবাইলফোন নম্বরে কল দিলে তাও বন্ধ পাওয়া যায়। জানতে চাইলে ইউপি মেম্বার পরিমল চন্দ্র বলেন, ঘটনার সময় তিনি রুবেলকে অনুসরণ করে ওই গৃহবধূর বাড়ি পর্যন্ত যান। এরপর রুবেলকে আটক করে মারপিট করেন। অস্বামাজিক কাজের অভিযোগে ওই গৃহবধূকেও সামান্য মারধর করা হয়। এছাড়া শনিবার গ্রামের হিন্দু মাতব্বররা ওইগৃহবধূকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও ভোজ দেয়ার নির্দেশ দেন।

এসব বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তাকে একঘরে থাকতে হবে। এই মেম্বারের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগে এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ করা হয়। পরে সাংবাদিকরা জানতে পেরে পদক্ষেপ নিলে এব্যাপারে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয় এবং অভিযুক্তকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। জানতে চাইলে কথিত মাতব্বর খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন। তিনি বলেন, যে বিষয়টির মিমাংশা হয়ে গেছে তা নিয়ে সাংবাদিকদের এত মাথাব্যাথা কেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ বিভিন্ন সময় তুচ্ছ ঘটনায় শালিসে জিতিয়ে দেয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন। অন্তত তিন জন নারী পুরুষ জানান, খোরশেদ তাদের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়েও তাদের কাজ করেননি।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪