ঢাকা   ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাহজাদপুরে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) এর মসজিদ ও মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ শুরু

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১, ২০২৪
  • 142 শেয়ার

আব্দুল্লাহ আল মোমিন, বিশেষ প্রতিনিধি:

আজ ২১ মার্চ – ২০২৪ইং (বৃহস্পতিবার) থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়া করতোয়া নদীর তীরে জগৎ বরেণ্য অলী ইয়ামেন শাহাজাদা হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) এর মসজিদ ও মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ শরীফ শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাদ ফজর খতমে কোরআন, সকালে ইসলামের ঝাঁন্ডা (নিশান) উড়ানোর মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ওই বাৎসরিক ওরশ শরীফের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বুধবার বাদ যোহর গেলাপ ফাতেহা, বাদ আছর গেলাপ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ও বাদ এশা রওজা মোবারকে গেলাপ চড়ানো হয় । বৃহস্পতিবার বাদ আছর ফাতেহা পাঠ, বাদ মাগরিব জিকির আসগর ও বাদ এশা ওয়াজ মাহফিল ও নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনের উক্ত ওরশ শরীফে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান করছেন।

উক্ত ওরশ শরীফ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্বা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। শুক্রবার সারারাত ওয়াজ মাহফিল শেষে শনিবার বাদ ফজর আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ওই বাৎসরিক ওরশ শরীফের পরিসমাপ্তি ঘটবে। এদিকে, ওরশ শরীফে যোগদানের জন্য ইতিমধ্যেই দেশ বিদেশ থেকে অসংখ্য আশেকান, জাকেরান, ভক্তবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা শাহজাদপুরে আসতে শুরু করেছেন। উক্ত ওরশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ কামরুজ্জামান।

উল্লেখ্য, ইয়ামেন শাষণকর্তা মোয়াজ ইবনে জাবাল এর বংশধর, শাহজাদা হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) ১২৯২ থেকে ১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) ও ১২ জন সুফী সাধকসহ পানিপথে জাহাজ যোগে এ অঞ্চলে আগমন করে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ওই সময়ে এ অঞ্চলের অমুসলিম অধিপতি রাজা বিক্রম কেশরীর একজন বিশ্বস্ত গুপ্তচর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হযরত মখদুম শাহদৌলার অতি নিকটে স্থানলাভ করেন। রাজা বিক্রম কেশরীর সৈন্যদের সাথে শেষ ধর্মযুদ্ধ চলাকালীন আছরের নামাজ আদায়রত অবস্থায় ওই গুপ্তচর হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এর মস্তক মোবারক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে সুরে বিহারের রাজধানী মঙ্গলকোট মতান্তরে মহলকোটে নিয়ে যান।

এ সময় তাঁর মস্তক মোবারক থেকে অলৌকিকভাবে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ উচ্চারিত হচ্ছিল। এটা দেখে রাজা মুসলমানদের ডেকে তাঁর মস্তক মোবারক দাফন করার নির্দেশ দেন। যে স্থানে তাঁর মস্তক মোবারক দাফন করা হয় আজও তা ‘ছের মোকাম’ নামে পরিচিত। এ ঘটনার পর রাজার প্রধান সেনাপতি সহ অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনি (রহ.) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে মহান ওই অলীর নামানুসারে এ অঞ্চলের নামকরণ হয় শাহজাদপুর।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪