ঢাকা   ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে অটোরিকশা চালকের বিশেষ ছাড়

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : সোমবার, মার্চ ১৮, ২০২৪
  • 87 শেয়ার

রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

রমজানুল মেবারক, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় মাসজুড়ে অটোরিক্সার নির্দিষ্ট ভাড়া থেকে ৫ টাকা ছাড় দিয়েছেন। সাঈদুল ইসলাম (৩৬) নামের এক অটোচালক। চিলমারী-কুড়িগ্রাম রোডে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার সামন-পিছনে টাঙানো ব্যানার নজর কেড়েছে কুড়িগ্রামের সকল শ্রেণিপেশার মানুষজনের।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) অটোরিকশায় টাঙানো যাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি তার গাড়ীর সামন-পিছনে টাঙানো ব্যানারে লিখেছেন— ‘পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে নির্দিষ্ট ভাড়া থেকে ৫ টাকা ছাড়’।
সামর্থ্য অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সল্প আয়ের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাঈদুল ইসলাম (৩৬) নামে এই অটোরিকশাচালক।

যেসময় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে নিত্য পণ্যের দামের উর্ধ্বগতি, ঠিক সেসময় ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালক সাঈদুল তার সামর্থ্য অনুযায়ী মাসজুড়ে যাত্রী সাধারনের বিশেষ ছাড়ে ভাড়া কমিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাঈদুল ইসলামের অটোরিকশায় করে যেকেউ গন্তব্যে পৌঁছালেই নির্দিষ্ট ভাড়া থেকে কম নিচ্ছেন ৫-১০ টাকা। প্রভাষক ও সাংবাদিক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এভাবেই আমরা যদি নিজ অবস্হান থেকে এগিয়ে আসি তাহলেই সম্ভব দামের এই উর্ধ্বগতি ঠেকানো।

রমজানে পবিত্রতা রক্ষায় তার মতো আমাদেরও ছাড়ের মানুষিকতা থাকা দরকার। তা নাহলে মাহে রমজানের শিক্ষা হতে আমরা বঞ্চিত হবো। ‘অটোরিকশাচালক সাঈদুল ইসলাম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনিবাড়ি ইউনিয়নের রুপার খামার এলাকার বাসিন্দা। সংসারজীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার। ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। এ বিষয়ে অটোরিকশাচালক সাঈদুর ইসলাম বলেন, আমি রমজান মাসের আগে ফেসবুকে দেখেছি সৌদি আরবের একটি দোকানে রমজান উপলক্ষ্যে কেনাকাটায় ৪০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। এটা দেখে চিন্তা করলাম, আমি আমার অবস্হান থেকে রমজানে মানুষের জন্য কি করতে পারি। আমার তেমন সামর্থ্য নাই, আমার একটি অটোরিকশা আছে, যাত্রীদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা করি। এই চিন্তা থেকে আসলে আমার এটা করা। আমার এই ছাড় যাত্রীদের জন্য পুরো রমজান মাসজুড়েই থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, আগে আমি ঢাকায় একটা কোম্পানিতে চাকরি করতাম। পরে বাড়িতে এসে গত ১০-১২ বছর থেকে অটোরিকশা চালাই। এই অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চলে আমার। আমার এই ছাড়ের বিষয়টি দেখে অন্যন্য অটোরিকশাচালকরা আমাকে অন্যায় কথাবার্তা বলছে। তবে আমি কিছু মনে করছি না। আমার অটোটি চালাচ্ছি, চিলমারী উপজেলা হতে কুড়িগ্রাম, উলিপুর ও রাজারহাট রোডে। উলিপুর থেকে জনপ্রতি কুড়িগ্রাম ৩০ টাকা ভাড়া, আর আমি বর্তমানে ভাড়া নিচ্ছি ২০-২৫ টাকা।

কুড়িগ্রাম সদর এলাকার আমিনুল ইসলাম নামের একজন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে একজন অটোরিকশাচালক হয়ে অনেক প্রশংসনীয় মহতী উদ্যোগ  ।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪