সুবর্ণগ্রাম সংবাদ. মাদারীপুর ॥
মা
দারীপুরে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’ বা সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই হাতবোমা ফাটিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে গ্যাং-এর সদস্যরা। আধিপত্য ধরে রাখতে আরো বেপরোয়া ১৪-১৬ বছর বয়সী কিশোররা। দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে ভাংচুর করা হচ্ছে বসতঘর-দোকানপাট। ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ বলছে, প্রতিরোধ প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুইপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য। প্রশাসনের চোখের সামনে একের পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় কিশোর গ্যাং-এর দুইপক্ষ। ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে আতঙ্ক। এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু হয় সাধারণ মানুষের। শহরের বটতলা, জেলা পরিষদ, বাদামতলা, ইউআই স্কুল রোড, আমিরাবাদ, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়েও প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং। দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালাচ্ছে তারা। একের পর এক সংঘর্ষে ভাংচুর করা হচ্ছে বসতঘর-দোকানপাট। বাসাবাড়ি থাকা আর রাস্তাঘাটে চলাচলে বাড়ছে আতঙ্ক। প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
জানা যায়, মাদারীপুরে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং। গত এক বছরে দৌড়াত্ম বাড়ায় অপরাধের মাত্রা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আধিপত্য বিস্তার আর রাজনৈতিক সুবিধার আড়ালে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে যোগ দেয় ১৪-১৬ বছর বয়সী একাধিক বখাটে কিশোর।
পরিসংখ্যান বলছে, গেল এক বছরে কিশোর গ্যাং-এর হামলা আর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৩০টি। এর বেশিরভাগই সংর্ঘষ হয়েছে পৌর এলাকায়। মামলা হয়েছে হাতেগোনা দুইএকটি। শহরে যে কয়টি কিশোর গ্যাং-এর হামলার ঘটনা ঘটেছে, সবগুলোই সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টার মধ্যে। মুর্হুতেই সটকে পড়ে গ্যাং-এর সদস্যরা। নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন, বলছেন বিশ্লেষকরা।
মাদারীপুর পৌরসভার বটতলা এলাকার বাসিন্দা আল শাহরিয়ার করিম বলেন, ‘আমার কোন দল করি না, কোন রাজনীতির সাথেও নেই। অথচ, কোন কারণ ছাড়াই আমার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর করা হয়েছে। প্রায়ই কিশোর গ্যাং-এর দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে, প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকায়, গ্যাং-এর সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
এক ব্যবসায়ী জানান, ‘দুইপক্ষ মারামারি করে। বোমা ফাটিয়ে আনন্দ করে। অথচ ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে, মাঝে মাঝে মালামাল লুটও হয়। হাতবোমার বিকট শব্দে বাসাবাড়ি থাকাও দায় হয়ে পড়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা সন্ধান দাস বলেন, দুইপক্ষ মারামারি করে, ‘পুলিশ প্রথমে দর্শকের ভুমিকায় থাকে। সাথে সাথে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে কিশোররা ভয়ে দৌঁড়ে পালাতো, আমরা চাই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বেশি তৎপর হোক। তাহলে কিশোর গ্যাং-এর কোর অস্বিত্বই থাকবে না।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, কিশোর গ্যাং নির্মূলে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। পাশাপাশি আইনীভাবেও নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। মামলাও হয়েছে কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে।
-এসকে অভিজিৎ.মাদারীপুর ॥