বিগত সরকারের আমলে অন্তত দুইবার গুম হওয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান মাদারীপুরবাসী। বিএনপির সরকারের মন্ত্রীর স্থানে ঠাই পাবেন এই ত্যাগী নেতা এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
জানা যায়, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ৯৬ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে বিজীয় হন। তার নিকটতম প্রতিন্দন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়েছেন। ১১ হাজার ৪৮২ ভোট বেশি পেয়ে খোকন তালুকদার বিজয়ী হওয়ায় আনন্দের বন্যা পুরো মাদারীপুর-৩ আসনে। এখন সেখানকার ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যশা খোকন তালুকদারকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী স্থানে ঠাই পাবে। এরইমধ্যে বিএনপির সরকারের (প্রস্তাবিত) গঠিত মন্ত্রীসভায় ত্যাগী এই নেতার স্থান হতে পারে এমন গুঞ্জনও উঠেছে। সেই প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন জেলা ও উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীরা।
একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে তিন মাস ১৭ দিন ও ২০১৮ সালে তিনদিন গুম ছিলেন তিনি। গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার আমলে গুম হয়েছেন অন্তত দুইবার। দেড়শো’র বেশি মামলার আসামিও হয়েছেন, কারাবরণ করছেন বহুবার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে প্রথমবার তাকে ধানমন্ডির মেট্রো শপিং মল ও শেষবার রমনা হোটেলের ভেতর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চালানো হয় অমানসিক নির্যাতন। প্রথমবার তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফরিদপুরের কানাইপুরে মহাসড়কে ও শেষবার রমনা থানায় রেখে যান অজ্ঞাতরা। গুম থাকাকালীন সময় খোকনের পরিবার ছিল দুঃচিন্তায়, আর ভয়াবহ আতঙ্কে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। রাজনীতিতে আসার পর থেকে বড় একটি সময় ছিলেন বিরোধী দলে। শত নির্যাতনের পরও টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় থাকায় গুম হতে হয়েছে। কারাবরণ হতে হয়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থী হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। মাদারীপুর-৩ আসনের জনগণের প্রত্যাশা এখন মন্ত্রীর স্থানে ঠাই হওয়ার। দল থেকে যদি এই স্থানটুকু আমাকে দেয়, তাহলে দলের প্রতি চীরকৃতজ্ঞ থাকবো। দক্ষিনবঙ্গ তথা মাদারীপুরের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কখনই যাবো না।’
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ডাসার উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার ৫ ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর-৩ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৬৪৬ জন। নারী ভোটার আছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৮ জন। এছাড়া ২ জন রয়েছে হিজড়া ভোটার। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৪টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭টি ও কালকিনি উপজেলায় ৭২ ও ডাসার উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২৫টি।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৮ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির এই নেতা। তার বাড়ি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম খান্দুলী গ্রামে। তার বাবা হাজী এছাহাক উদ্দিন রতন তালুকদার ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন দীর্ঘদিন। খোকন তালুকদার ২০১৮ সালে মাদারীপুর-০৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে তার।